সংগৃহীত

বাংলাম্যাপ ডেস্কঃ ভারতে করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে করোনার ‘ডাবল ও ট্রিপল’ ভ্যারিয়েন্ট মারাত্মক আঘাত হানছে। এদিকে অক্সিজেনের অপ্রতুলতার জন্য দেশটি মারাত্মক সংকটে পড়েছে। প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় বাংলাদেশেও করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনার ভারতীয় ধরণ এদেশে প্রবেশ করলে করোনা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ।

ভারতে শ্মশানগুলোতে লাশের ভিড় ক্রমাগত বাড়ছেই। সামাল দিতে পারছে না শ্মশান কর্তৃপক্ষ। দেশটিতে টেস্টিং কিট স্বল্পতা, ওষুধ, পিপিই ও বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রীরও সংকট দেখা দিয়েছে।

ভারতের করোনার এ বিরূপ পরিস্থিতির প্রতি লক্ষ্য রেখে বাংলাদেশ সরকার ২৬ এপ্রিল থেকে আগামী ৯ মে পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সবকটি সীমান্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে জরুরি পণ্যবাহী বাহন চলাচল করবে।

তবে জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, পণ্যবাহী বাহন চলাচল করলেও এগুলোর চালক ও সহকারীদের দেশে প্রবেশের পর কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তা না হলে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যায়।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ শনাক্ত হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। তবে এ ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলে সরকারের রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন জানান, ‘সব দেশের ভাইরাসই সব দেশের জন্য হুমকি। এটি জনস্বাস্থের জন্য হুমকি। আমরা সচেতন না থাকলে, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে ভারতীয় ভাইরাসের হুমকি মোকাবিলা করা কঠিন।’

তবে গবেষকর এখন পর্যন্ত  ভারতে তৈরি হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরনটি সংক্রমণ ছড়াতে কতটা দায়ী, তা নিরূপণ করতে পারেনি ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোন ভাইরাসই প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হয়, নিজেদের নতুন নতুন সংস্করণ বা ধরন (স্ট্রেইন) তৈরি করে। কোন কোন পরিবর্তনে ভাইরাসটি দুর্বল হয়ে পড়ে। আবার কোন কোন পরিবর্তনের কারণে ভাইরাস আরও বিপজ্জনক বা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে, এতে প্রচলিত টিকায় সুরক্ষা পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়ে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে তৈরি হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরনটির বৈজ্ঞানিক নাম দেয়া হয়েছে ‘বি.১.৬১৭’। এটি প্রথম শনাক্ত হয় গত অক্টোবরে। করোনাভাইরাসের এই ধরনটিকে ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ও বলা হয়।

ভারতে নতুন ওই ধরনটি উল্লেখযোগ্য দুই পরিবর্তনের পর তৈরি হওয়ায় এটিকে ‘ডাবল মিউট্যান্ট’, ‘ট্রিপল মিউট্যান্ট’ বলছেন গবেষকরা।

এদিকে ভারত ফেরত সাত করোনা রোগী যশোর হাসপাতাল থেকে পালানোর পর নতুন করে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে দ্রুতই তাঁদের ধরতে সক্ষম হয় পুলিশ।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা জানার পর পুলিশ বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে সাতজনের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়। এরপর স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তাদের ধরা হয়। তাদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

১৮ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে করোনা সংক্রমিত সাতজন যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফেরেন। তারা যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি ছিলেন। সেখান থেকে তারা পালিয়ে যান।