টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের লালমাটির মধুপুর বনাঞ্চলে প্রায় তিন হেক্টর জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে উদ্ভিদবিদ্যার গবেষণাগার (আরবোরেটামে) । এই(আরবোরেটামে)  গবেষণাগার উদ্ভিদবিদ্যার বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া গাছ পরিচিতি, উদ্ভিদবিদ্যা অনুশীলন, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরিক্ষা ও গবেষণা উদ্যান হিসেবে জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এটি।  

বন বিভাগের সদর রেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, মধুপুর গড়ের বনাঞ্চলে প্রায় ২৫০ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। বিশাল আয়তনের এ বনে নানা প্রজাতির প্রাণীকূল রয়েছে। এ বনে আসা উদ্ভিদ বিজ্ঞানী, শিক্ষার্থী, পর্যটকসহ নানা শ্রেণি-পেশার লোকদের পুরো বন অল্প সময়ে ঘুরে দেখা সম্ভব হয় না। এছাড়া গবেষকদের পক্ষে অল্প সময়ে উদ্ভিদকূল সম্পর্কে জানা অসম্ভব হয়ে পড়ে।তাই উদ্ভিদবিদ্যার গবেষণাগার বর্তমানে তাদের জন্য সহায়ক হবে ।

এই উদ্ভিদবিদ্যার গবেষণাগার(আরবোরেটামে) রয়েছে গামার, গর্জন, গজারি, চাপালিশ, কানাইডাঙ্গা, বহেড়া, ডুমুর, সিধা, ওজা, হরিতকি, আমলকি, গাদিলা, পিত্তরাজ, কাঞ্চন, বন আমড়াসহ বৈচিত্র্যময় হরেক প্রজাতির চার হাজার আটশত গাছের চারা রোপন করা হয়েছে। ক্রমান্বয়ে প্রজাতির সংখ্যা বাড়ানোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। 

জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা এসএম হাবিবুল্লাহ জানান, আরবোরেটাম প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- উদ্ভিদ গবেষণা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন,জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা।তিনি আর ও জানান এ আরবোরেটাম প্রতিষ্ঠার ফলে মধুপুর বনের ঐতিহ্য টিকে থাকবে, বৃদ্ধি পাবে বন্যপ্রাণীসহ জীববৈচিত্র্য। 

টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা(ডিএফও) ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক  জানান, এ আরবোরেটাম শিক্ষক- শিক্ষার্থী ও গবেষকদের গবেষণার কাজে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। মধুপুরের বন থেকে যেসব উদ্ভিদ হারিয়ে যাচ্ছে- সেগুলো সংরক্ষণ করা যাবে। এখান থেকে বীজ ও কার্টিং সংগ্রহ করা যাবে। এটা হবে দেশের অন্যতম একটি (উদ্ভিদবিদ্যার গবেষণাগার) আরবোরেটাম। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বীজ আহরণ, গবেষণাসহ নানা কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ আরবোরেটাম।